এরপরেও সনাতন সংস্কৃতি ব্রাহ্মণ্যবাদী ?

আজকাল খুব একটা কথার প্রচলন হয়েছে – “দলিত সমাজ” অত্যাচারিত, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা অত্যাচারিত!! এবং এই অত্যাচারের ফলেই নাকি বহু নিম্ন বর্ণের সনাতন ধর্মান্তরিত হয়েছেন নিজ ইচ্ছায় অথবা জোরপূর্বক সেই বহুকাল আগে থেকে!সনাতন সমাজ বা সনাতন সংস্কৃতি – নাকি ব্রাহ্মণ্যবাদী!! একটু আদিকাল থেকে দেখে আসা যাক ….

শ্রুতি থেকে বেদ যখন লিপিবদ্ধ হয় – যিনি লিপিবদ্ধ করেন – সেই ব্যাসদেব, তিনি ব্রাক্ষণ ছিলেন না ! ব্রাহ্মণ যখন পৈতা ধারণ করেন – তাঁকে যে “গায়ত্রী”মন্ত্র জপ করতে হয় সেই গায়ত্রী মন্ত্রের যিনি দ্রষ্টা – মহর্ষি বিশ্বামিত্র – তিনি জাতিতে ব্রাক্ষণ ছিলেন না! দেবতারা যাঁর সাহায্যে – স্বর্গ পুনরুদ্ধার করেন এবং যাঁর আত্মত্যাগ জগৎ স্মরণীয়, সেই দধীচি মুনি – শূদ্র ছিলেন – ব্রাহ্মণ ছিলেন না! যাঁকে দক্ষিণ ভারতের উদ্ধারকর্তা বলা হয় – সেই অগস্ত্য মুনি – শূদ্র ছিলেন, ব্রাক্ষণ ছিলেন না! এরপরেও সনাতন সংস্কৃতি ব্রাহ্মণ্যবাদী ?

ত্রেতা যুগে রচিত রামায়ণ – যিনি রচনা করলেন – মহর্ষি বাল্মীকি, ব্রাক্ষণ ছিলেন না(আজও দেখুন – উত্তর প্রদেশের বাল্মীকি যাঁরা, তাঁরা এস.সি.)! রামায়ণে সব থেকে শ্রদ্ধেয় চরিত্র – রাম, ক্ষত্রিয় ছিলেন – ব্রাক্ষণ নয়! শ্রীরামের যুদ্ধ যাঁর বিরূদ্ধে – তিনি রাবণ, রাবণ ব্রাক্ষণ ছিলেন! এরপরেও সনাতন সংস্কৃতি – ব্রাহ্মণ্যবাদী?

মহাভারতে তিন নীতির যুদ্ধ! ধর্মনীতি, রাজনীতি এবং কূটনীতি! ধর্মনীতি যিনি ধারণ করে আছেন তিনি শ্রীকৃষ্ণ! রাজনীতি যিনি ধারণ করে আছেন – তিনি মহামতি বিদুর! আর কূটনীতির ধারক – শকুনি ! ভারতীয় সভ্যতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী যাঁকে বলা হয় – সেই মহামতি বিদুর – ব্রাক্ষণ ছিলেন না, ছিলেন দাসীর পুত্র! মহাভারত যুগে শ্রীকৃষ্ণের পর যিনি সব থেকে জ্ঞানী ব্যক্তি – সেই মহামতি বিদুর শূদ্র ছিলেন – ব্রাক্ষণ ছিলেন না ! এরপরেও হিন্দু সংস্কৃতি ব্রাহ্মণ্যবাদী ?

প্রাচীন ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ তিন রাজবংশ – নন্দ বংশ (শূদ্র), মৌর্যবংশ(শূদ্র) এবং গুপ্ত বংশ(বৈশ্য) ! এঁরা কেউ ব্রাক্ষণ ছিলেন না ! এরপরেও যাঁদের রাজত্বের বিস্তৃতি, প্রায় মোগলদের রাজত্বের ভূখণ্ডের সমান বিস্তৃতি ছিল – সেই পালবংশও ব্রাক্ষণ ছিল না ! এমন কি সেন বংশও ব্রাক্ষণ ছিল না ! তাহলে কখন ব্রাহ্মণ্যবাদীরা অব্রাক্ষণদের উপর অত্যাচার করেছিলো বলতে পারেন ? যখন প্রাচীন সব গল্পই দেখা যায়, দরিদ্র ব্রাক্ষণ – ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে প্রতিদিন ভিক্ষা করতে বের হচ্ছেন, ঘরে ব্রাক্ষণপত্নী পথ চেয়ে আছেন – কখন ব্রাক্ষণ ফিরবেন, ভিক্ষা নিয়ে – তারপর রান্না হবে – সেই ব্রাক্ষণগণ অত্যাচারী ?

আধুনিক যুগের ভারতের দিকপুরুষ – যিনি ব্রাক্ষণশ্রেষ্ঠ শ্রী রামকৃষ্ণের শিষ্য এবং যিনি রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠা করেন, সেই স্বামী বিবেকানন্দ ব্রাক্ষণ ছিলেন না! ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা প্রণবানন্দ মহারাজ – ব্রাক্ষণ ছিলেন না। আজ সারা বিশ্বে শ্রীকৃষ্ণ নাম মাহাত্ম্য বিতরণ, মন্দির প্রতিষ্ঠা হচ্ছে- যেই সংঘঠনের মাধ্যেমে – সেই “ইসকন” এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদ – ব্রাক্ষণ ছিলেন না! তাহলে বলতে পারেন – কোথায় এই সংস্কৃতি ব্রাহ্মণ্যবাদী????

হ্যাঁ এঁরা সকলেই – নিজ কর্ম গুণে ব্রাক্ষণ শ্রেষ্ঠ, এবং কর্ম দ্বারাই ব্রাক্ষণ ! গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন – তিনি গুণ ও কর্মের ভিত্তিতে চারিবর্ণের সৃষ্টি করেছেন । চার জাতি নয়।

সৌজন্যঃ ফেসবুক

মন্তব্য দিন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s

%d bloggers like this: