জীবন সংঘর্ষ

আমি আকোলা উপজেলার একটি গ্রামে একটি দলিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। যখন আমার 12 বছর বয়সে, আমার বাবাকে আমার বিয়ের জন্য সবাই খুব জোর দিল। 10 বছর বয়সে বড়ো, একজনের সাথে, সে মুম্বাইতে থাকে। আমার বাবার ইচ্ছা না থাকলেও সামাজিক চাপের কারণে, আমার বিয়ে হয়েছিল।

আমি নববধূ হয়ে এসে জানতে পেরেছি যে তার পরিবার একটি বস্তিতে একটি ঘরে বাস করে এবং আমার পতির কোন চাকরি নেই। আমাকে বহু দুর্ব্যাবহার, অত্যাচারের সহ্য করতে হয় – যদি আমার রান্নায় ভুলে অতিরিক্ত লবণ থাকে, তবে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের হাতে মারধর খেয়েছি… সেটা ছিল আমার জীবনের ব্যক্তিগত নরক।

6 মাস পর, আমার বাবা আমার সাথে দেখা করতে এলেন – তিনি আমাকে চিনতে পারলেন না। আমি ময়লা, জঘন্য জামাকাপড় পরে ছিলাম এবং আমার মুখের হাসি তখন হারিয়ে গিয়েছে। আমার বাবা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের সঙ্গে ঝগড়া করে আমাকে বাড়ীতে নিয়ে আসে। আমাকে বলে একটা খারাপ স্বপ্নের মত এই দিনগুলো ভুলে যেতে।

কিন্তু মানুষ আমাকে দোষারোপ শুরু করলো। তারা এও বলেছিল যে আমি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে দিয়েছি কারণ আমি নিশ্চয়ই কিছু ভুল করেছি, সব দোষ আমার, তাদের কিছু নয়। আমি এমনকি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি।

জীবনের নতুন পাতাটি পাল্টে দিয়ে, আমি মুম্বাই ফিরে আসি এবং এক দর্জির কাজ শুরু করলাম। জীবনে আমি প্রথম দেখলাম 100 টাকা দেখতে কেমন হয়! আমি আমার সঞ্চয় দিয়ে কল্যাণে একটি রুম ভাড়া করি এবং এখানে আমার পরিবারকে ডেকে আনি। ইতিমধ্যে এক বিশেষ রোগে আমার এক বোন মারা যায়। তখন আমার বোনদের জীবন বাঁচানোর সামর্থ্য নই, আমি বুঝতে পারলাম যে আমার পরিবারের জন্য আমাকে আরও অর্থোপার্জন করতে হবে। তাই আমি একটি সরকারি ঋণ নিয়ে আমি আসবাবপত্রের ব্যবসা শুরু করি। ব্যাবসাটা ভাল চলছিল এবং আমরা একটি ভাল জীবন বসবাস করতে শুরুকরি।

আমার নিকটে অনেক মানুষ জীবনের সংগ্রাম করছিল, ঠিক যেমনটা আমি করেছি। তাই আমি তাদের ঋণ পেতে সাহায্য করার জন্য একটি এনজিও (NGO) শুরু করলাম। কখনো কখনো, আমি আমার নিজের সঞ্চয় থেকে তাদের সাহায্য করতাম এবং ধীরে-ধীরে আমার সামাজিক কাজের একটি ভাল খ্যাতি হয়।

কামানি টিউবের কর্মীরা তাদের কোম্পানী এবং চাকরি বাঁচানোর জন্য আমাকে অনুরোধ করলো। 116 কোটি টাকার ঋণ নিয়ে কোম্পানিটি 140 টি মামলায় জড়িত ছিল। সবাই আমাকে বলেছিল যে এটি আত্মহত্যার সমান – কিন্তু 500+ পরিবার ক্ষুধার্ত! তাই আমি তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে গিয়ে সেই দায়িত্ব নিলাম, তাদের জন্য ন্যায়বিচার ছাড়া আর তখন আমি কিছু চাইনি। আমি অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলে কিছু ঋণ সরকারের থেকে মুকুব করাতে পারি। প্রথমে একটি টীম তৈরি করি এবং তারপর কারখানা স্থানান্তরিত করি। আমি সবকিছু নতুনভাবে শুরু করার চেষ্টা করি।

2006 সালে আমি চেয়ারম্যান হয়ে গেলাম। আমাদেরকে 7 বছরের মধ্যে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে বলেছিল, আমরা এক বছরের মধ্যে সেই ঋণ পরিশোধ করেছিলাম এবং এমনকি শ্রমিকদের বেতন দিতেও শুরু করি। ধীরে ধীরে এবং নিশ্চিতভাবেই, জিনিসগুলি পরিবর্তিত হয়েছে এবং আজকে কোম্পানির টার্ন-ওভার আমার স্বপ্নের চেয়ে অনেক বেশি, আমার কাজের জন্য 2013 সালে মাননীয় রাষ্ট্রপতি মহাশয় আমাকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দেন। আমি একটি অবিশ্বাস্য যাত্রা করেছি, একটি দলিত বালিকা-বধু থেকে বহু মিলিয়ন-ডলার কোম্পানির মালিক। এটা কঠিন ছিল – কিন্তু আমি নিশ্চয় করেছিলাম যে আমাকে কোন চ্যালেঞ্জ কখনোই পরাভূত করবে না। আমি এটা শিখতে অনেক সময় নিলাম, কিন্তু এখন আমি বুঝেছি যে নিজেকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস না করলে আমি জীবনের মুখোমুখি হতে পারতাম না।

কল্পনা সরোজ, চেয়ারম্যান কামানি টিউবের গল্প… a real Slumdog Millionaire! 👏👏🙏🙏

মন্তব্য দিন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: